পোলিশ পাসপোর্টের ছবির শর্ত ও মাপ
ছবির মাপ, পটভূমি ও মুখের অভিব্যক্তি সম্পর্কে সরকারি নিয়ম মেনে পোলিশ পাসপোর্টের ছবি তৈরি করুন। দ্রুত ছবি প্রস্তুত করতে আপনি ওপরের টুলটি ব্যবহার করতে পারেন।
সরকারি মাপ ও মাত্রা
পোলিশ পাসপোর্টের ছবির মাপ হতে হবে 35 বাই 45 মিলিমিটার, অর্থাৎ প্রায় 1.38 বাই 1.77 ইঞ্চি[1]। আপনাকে একটি ছবি জমা দিতে হবে[1]। কর্তৃপক্ষ মিলিমিটারে মাথার উচ্চতার কোনো নির্দিষ্ট মাপ দেয়নি[1]।
ছবি প্রিন্ট করার আগে ওপরের টুলটি দিয়ে এই মাপে ক্রপ করতে পারেন। ছবি ঠিক করার সময় মাথা ফ্রেমের মাঝখানে রাখুন, যাতে চূড়ান্ত ছবিটি সহজেই মানক মাপের শর্ত পূরণ করে।
পটভূমি ও আলোর শর্ত
পোলিশ পাসপোর্টের ছবিতে একরঙা সাদা পটভূমি ব্যবহার করুন[1]। আলো যেন সমানভাবে পড়ে এবং কোনো ছায়া বা সাজসজ্জার উপাদান না থাকে, তা নিশ্চিত করুন[1]।
সমান আলো ব্যবহার করুন, যাতে আপনার মুখ ও পটভূমি স্পষ্ট দেখা যায়। মাথার পেছনে গাঢ় ছায়া এড়াতে দেয়াল থেকে একটু দূরে দাঁড়ান। আপনার সামনে থাকা জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো সাধারণত সবচেয়ে ভালো ভারসাম্য দেয়, তবে তাতে যেন আপনাকে চোখ কুঁচকাতে না হয়।
মুখের অভিব্যক্তি, চোখ ও মুখ
মুখের অভিব্যক্তি নিরপেক্ষ রাখুন, মুখ বন্ধ রাখুন এবং সোজা সামনে তাকান[1]। ভ্রু কুঁচকাবেন না বা হাসবেন না; মুখ শিথিল রাখুন।
চশমা পরা যাবে শুধু তখনই, যখন আপনার চোখ স্পষ্ট দেখা যায় এবং কাচে আলো প্রতিফলিত না হয়; গাঢ় চশমা পরা যাবে না[1]। চশমার মোটা ফ্রেম যদি চোখের ওপর দিয়ে যায়, তাহলে ছবি তোলার সময় চশমা খুলে রাখতে পারেন, যাতে অফিসে ছবি প্রত্যাখ্যাত না হয়।
মাথা ঢাকার পোশাক ও চুলের নিয়ম
ধর্মীয় বা চিকিৎসাগত কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরা যাবে[1]। আপনার মুখ দৃশ্যমান থাকতে হবে[1]।
আপনার মুখ যেন বাধাহীন থাকে এবং চোখ দেখা যায়, তা নিশ্চিত করুন[1]। কপাল ও চোখ থেকে চুল সরিয়ে রাখুন, যাতে দপ্তরের কর্মী আপনার মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট দেখতে পারেন। আপনি মাথা ঢাকার কিছু পরলে, সেটি এমনভাবে ঠিক করুন যেন কপাল বা গালে ছায়া না পড়ে।
শিশু ও ছোটদের জন্য বিশেষ নিয়ম
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের চোখ বন্ধ, মুখ খোলা বা মুখের অভিব্যক্তি নিরপেক্ষ না হলেও চলবে[1]। তাদের মুখে কোনো বাধা থাকা যাবে না এবং পটভূমি হালকা ও একরঙা হতে হবে[1]।
12 বছরের কম বয়সী শিশুদের ডিজিটাল ছবি দিয়ে অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়া যায়; দপ্তরে আবেদন করলে মুদ্রিত ছবি ব্যবহার করতে হয়[1]।
বাড়িতে ছবি তোলা
আপনি ডিজিটাল ক্যামেরা বা স্মার্টফোন দিয়ে বাড়িতে পাসপোর্টের ছবি তুলতে পারেন। সেলফি তোলার চেষ্টা না করে কাউকে ছবি তুলে দিতে বলুন, কারণ সেলফিতে মুখের অনুপাত বিকৃত হয়।
ক্যামেরা থেকে প্রায় এক থেকে দুই মিটার দূরে দাঁড়ান এবং ক্যামেরার লেন্স চোখের সমতলে রাখুন। ভঙ্গিতে সামান্য পরিবর্তন করে একাধিক ছবি তুলুন, যাতে ক্রপিং টুল ব্যবহার করার সময় বেছে নেওয়ার মতো ছবি থাকে।
আপনার ছবি যাচাই করা
ছবি প্রিন্ট বা জমা দেওয়ার আগে প্রাথমিক শর্তগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে ভালোভাবে দেখুন। কাঁধ সমান, মাথা সোজা এবং মুখ বন্ধ রেখে অভিব্যক্তি পুরোপুরি নিরপেক্ষ আছে কি না, তা দেখুন।
পটভূমি ভালোভাবে দেখে নিশ্চিত করুন যে কোনো ছায়া বা অনাবশ্যক বস্তু নেই। চোখ পুরো খোলা আছে এবং সরাসরি ক্যামেরার লেন্সের দিকে তাকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
ছবি প্রিন্ট ও জমা দেওয়া
প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের আবেদন প্রিন্ট করা ছবি নিয়ে সশরীরে জমা দিতে হয়[1]। প্রিন্টের জন্য ছবি প্রস্তুত করার সময় আপনার আবেদনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ছবি ছাপানোর পর ধারালো কাঁচি বা পেপার ট্রিমার দিয়ে 35 বাই 45 মিমি মাপের ছবিটি কেটে নিন। জমা দেওয়ার আগে সেটি সরকারি শর্তাবলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
পোলিশ পাসপোর্টের ছবির সঠিক মাপ কত?
পোলিশ পাসপোর্টের ছবিতে কি আপনি চশমা পরতে পারেন?
পটভূমির রং কী হওয়া উচিত?
পটভূমি সাদা ও সমানভাবে আলোকিত হতে হবে এবং তাতে কোনো ছায়া বা সাজসজ্জার উপাদান থাকা যাবে না[1]।